আওয়ামী যুবলীগের ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন সংগঠনটির নেতারা। অনুমোদন পাওয়া কমিটিতে সংগঠনটির ১নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টাঙ্গাইলের গর্ব এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন ।
এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন টাঙ্গাইল জেলার কালীহাতি উপজেলার ছাতিহাটী গ্রামের মৃত আবুল হোসেন এবং মাতা হাসনা বেগমের বড় ছেলে। তিনি এল এল বি শেষ করে দীর্ঘদিন যাবত ঢাকা সুপ্রীম কোর্টে আইনি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন ১৯৯১ সালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং যুবলীগের পঞ্চম কংগ্রেসের ২০০৩ সালের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ১/১১ এর সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হলে এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে আইনি লড়াই করেছেন।
শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসা যুবলীগের এই সপ্তম কংগ্রেসে গত বছরের ২৩ নভেম্বর তিন বছরের জন্য নেতৃত্বে আসেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে সামস পরশ। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হন যুবলীগের ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল। যুবলীগের কমিটিতে ২৭ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে ২২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পাঁচটি পদ ফাঁকা রয়েছে।
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুবলীগ গঠন করেন তার ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি। ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কংগ্রেসে তিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ২০১২ সালে ষষ্ঠ কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শেখ মনি ও শেখ সেলিমের ভগ্নীপতি ওমর ফারুক। তারপর ছয় বছর নিবিঘেœ কাজ করে এলেও গত বছর ক্যাসিনোকান্ডে বড় ধাক্কা খান ওমর ফারুক; সেই সঙ্গে সমালোচনায় নাকাল হয় যুবলীগ। এরপর সংগঠনটির অনেকেই ক্যাসিনোকাÐসহ নানা অভিযোগে কারাগারে আছেন। অনেকেই সংগঠন ত্যাগ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
প্রায় সাত বছর আগে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছিলেন। সেই কমিটির নেতাদের অনেকেই ক্যাসিনোকান্ডে জড়িত থাকাসহ নানা অপরাধে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
টাঙ্গাইলের গর্ব এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন অনুমোদন পাওয়া কমিটিতে সংগঠনটির ১নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও প্রানবন্ত হয়েছে বলে মনে করছেন টাঙ্গাইলবাসী।
যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশিদ রবিন কে জানান, তার প্রতি আস্থা রাখার জন্য এবং তাকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথোভাবে পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এছাড়াও তিনি যেন তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারেন এজন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
অপরদিকে মামুনুর রশিদ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পেশাজীবি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতাকর্মীরা মামুনুর রশিদকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।